personal-loan-conditions-v2

পার্সোনাল লোন পাওয়ার পূর্বশর্তসমূহ কী কী?

বাংলাদেশের ব্যাংকসমূহ বিভিন্ন ধরনের লোন দেওয়ার পাশাপাশি পার্সোনাল লোনও দিয়ে থাকে। কীভাবে সহজে পার্সোনাল লোন পাওয়া যায় সেটি জানতে হলে এই নিবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন।

 

অনিশ্চিত মানব জীবনে কখন কীভাবে হঠাৎ নগদ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে তা কারোরই আগে থেকে জানা নেই। নানাবিধ অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার জন্য আমরা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পার্সোনাল লোন গ্রহন করে থাকি। অন্য যেকোনো ধরণের লোন এর চেয়ে এই লোন পাওয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন কারণে ব্যাংক ঋণের আবেদন নাকচ করে দেয়। আপনার পার্সোনাল লোনের আবেদন কখন গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্ভর করে কিছু শর্তের উপর। তাই এ এই ঋণ পাওয়ার পূর্বশর্তসমূহ কী কী চলুন তা দেখে নেওয়া যাক।   

ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর 

ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর এর উপর নির্ভর করে ঋণের আবেদন গৃহীত হবে কি না। ক্রেডিট স্কোর হল ঋণ গ্রহীতার আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং একই সাথে তার ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা আছে কি না তার মূল্যায়ন। পূর্ব গৃহীত ঋণ সময় মতো পরিশোধ হয়েছে কি না, ক্রেডিট কার্ডের পূর্ববর্তী ঋণের কিস্তি সঠিক সময়ে দেয়া হয়েছে কি না এই বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে ক্রেডিট স্কোর কতোটুকু ভালো হবে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে লেট পেমেন্ট এর কারণে ক্রেডিট স্কোর কমে যেতে পারে। তাই বলা যায় পার্সোনাল লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর অন্যতম পূর্বশর্ত।    

আয়ের উৎস

একজন ব্যক্তির আয়ের উৎসের উপর নির্ভর করে তার ঋণ এর আবেদন গৃহীত হবে কি না। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার চাকরির ধরণ অর্থাৎ তা স্থায়ী চাকরি না অস্থায়ী চাকরি তা দেখা হয়। তাই দেখা যায় সরকারি চাকরিজীবী বা বিভিন্ন নাম করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ব্যক্তিরা অনেক সহজেই পার্সোনাল লোন পেয়ে থাকেন। 

ঋণগ্রহীতার বয়স 

ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার বয়স অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ন একটি বিষয়। বাংলাদেশে ঋণের আবেদন এর জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬০ বছর। কিন্তু ঋণগ্রহীতার বয়স যদি ৫০ বছরের নিচে হয় সেক্ষেত্রে পার্সোনাল লোন পাওয়াটা সহজ হয়ে যায়। কেননা ঋণপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার আগে চিন্তা করে যে ঋণগ্রহীতা কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে সক্ষম কি না।  

মাসিক কিস্তি ও আয়ের অনুপাত

ব্যক্তির মাসিক আয় এবং লোনের কিস্তির অনুপাতের উপর পার্সোনাল লোন এর আবেদন মঞ্জুর হওয়াটা অনেকটা নির্ভর করে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বিবেচিত বিষয় হলো লোন এর কিস্তি যাতে ঋণগ্রহীতার আয়ের ৪০% এর উপর না হয়।  

অধিকমাত্রায় ঋণের আবেদন

অধিকমাত্রায় ঋণের আবেদন করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। কেননা ঘনঘন ঋণগ্রহণের কারণে তা ঋণগ্রহীতার অস্বচ্ছলতার দিকটি ফুটিয়ে তুলে। যা ঋণগ্রহীতার ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে অক্ষমতার আশঙ্কা জাগায়। তাছাড়া অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের কারণে ক্রেডিট স্কোর কমতে পারে। যার ফলে অনেক সময় পার্সোনাল লোন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। 

ঋণের মেয়াদ ও সুদের হার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা

অন্যান্য ঋণের তুলনায় পার্সোনাল লোন এর সুদের হার একটু বেশি হয়ে থাকে। ব্যাংকগুলো গড়ে প্রায় ১১ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। আবার ঋণের মেয়াদ কম হলে সুদের হার কম হয়ে থাকে। অপরদিকে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ হলে ই এম আই. সহজ হয় । তাই পার্সোনাল লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ ও সুদের হার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা প্রয়োজন।  

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

ঋণের আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাথে থাকা প্রয়োজন যেমন- ঋণগ্রহীতার সইকরা আবেদনপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, শেষ তিন মাসের বেতনের স্লিপ, সরকারি পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণ, শেষ ছয় মাসের ব্যাংক এর স্টেটমেন্ট, এমপ্লয়ি আইডি। পার্সোনাল লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ডকুমেন্ট গুলোতে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লোন আলাদিনের জাদুর চেরাগের মতো কাজ করতে পারে। সাধারণ যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ঋণ আবেদনকারীর ঋণ গ্রহণ যোগ্যতা নির্ণয় করে থাকে। তাই খুব সহজেই যদি আপনি পার্সোনাল লোন পেতে চান তাহলে উপরে বর্ণিত পার্সোনাল লোন পাওয়ার পূর্বশর্তসমূহ পালন করতে পারেন।  

এফএকিউ

  • পার্সোনাল লোন কোন কোন খাতে ব্যবহার করা যায়?

উত্তরঃ গাড়ি কেনার জন্য যেমন রয়েছে কার লোন, বাড়ি বানানোর জন্য রয়েছে হোম লোন, ঠিক তেমনি বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একজন ব্যক্তি নিতে পারে পার্সোনাল লোন। জটিল রোগের চিকিৎসা, বিয়ে, বিদেশ ভ্রমণ, ব্যবসায়িক কাজে, ঘর-বাড়ি মেরামতের কাজে হঠাৎ নগদ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লোন অনেক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। 

  • সরকারি ব্যাংক কী পার্সোনাল লোন প্রদান করে থাকে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক পার্সোনাল লোন প্রদান করে থাকে। যেমন- কৃষি ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক। 

Share this post

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on email
Share on print
en_USEnglish